শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
বর্তমান সময়ে বাতব্যথা বা আর্থ্রাইটিস একটি পরিচিত ও সাধারণ রোগ। এই রোগটি বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে হতে পারে এবং এটি পায়ের পাতা, হিপ জয়েন্ট, হাত, কোমরের জয়েন্ট বা মেরুদণ্ডে হতে দেখা যায়। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, গাউট, জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস, স্পনডাইলো আর্থ্রাইটিস এই রোগগুলো বেশি শোনা যায়।
বাতের ব্যথার ক্ষেত্রে জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাতের ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার আছে যা বাতের ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই ও পনিরে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে, যা হাড়কে শক্তিশালী করে। এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে বাতের ব্যথা কিছুটা উপশম হতে পারে।
মাছ: রুই, টুনা এবং স্যামন মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে অন্তত দুটি দিন ৮৫ থেকে ১১৩ গ্রাম মাছ খাওয়া উচিত।
সয়াবিন: সয়াবিনে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চমানের প্রোটিন ও ফাইবার যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এটি বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বাদাম: আখরোট, পেস্তা ও কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, ভিটামিন-ই ও ফাইবার থাকে। এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং আর্থ্রাইটিসের জন্য উপকারী।
শিমের বীজ: শিমের বীজে প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও পটাশিয়াম থাকে। এটি বাতের কারণে সৃষ্ট ফোলাভাব কমাতে সহায়ক।
লেবুজাতীয় ফল: কমলালেবু, পাতিলেবু, মুসম্বি ও আঙুরে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এসব ফল নিয়মিত খেলে হাড়ের ক্ষতি কম হয়।
গ্রিন টি: গ্রিন টিতে পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস থাকে, যা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হাড়কে সুরক্ষা দেয় এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।
ব্রকলি: ব্রকলি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের আশঙ্কা কমাতে সহায়তা করে। এতে উচ্চমানের ভিটামিন থাকে যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।
এই সকল খাবার বাতের ব্যথা কমাতে সহায়ক এবং হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে, বাতের রোগীরা অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এই খাবারগুলো খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করবেন। এছাড়া জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যেমন নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।